এইমাত্র পাওয়া :

স্মরণ কালের ইতিহাসে সেরা দূর্যোগময় দিন ঘূর্ণিঝড় আইলার ১০ বছর আজ

এমএম আব্দুল্লাহ আল মামুনঃ ২০০৯ সালে উত্তর ভারত মহাসাগরে জন্ম নেয়া দ্বিতীয় ঘূর্ণিঝড়টি জন্ম নেয় ২১ মে তারিখে, ভারতের কলকাতা থেকে ৯৫০ কিলোমিটার (৫৯০ মাইল) দক্ষিণে। ঘুর্ণিঝড়টি আঘাত হানে ২৫ মে তারিখে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশ ও ভারতের দক্ষিণ-পূর্বাংশে।

ধ্বংসাত্মক ঘূর্ণিঝড় আইলা ১২০ কিমি/ঘণ্টা (৭৫ mph) বেগে বাংলাদেশের পটুয়াখালি, বরগুনা, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালীর হাতিয়া, নিঝুম দ্বীপ, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলায় জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে।

আইলার প্রভাবে নিঝুম দ্বীপ এলাকার সকল পুকুরের পানিও লবণাক্ত হয়ে পড়েছে। খুলনা ও সাতক্ষীরায় ৭১১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বিধ্বস্থ হয়েছে। ফলে খুলনার দাকোপ ও কয়রা এবং সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন লোনা পানিতে তলিয়ে যায়। ৭৬ কিলোমিটার বাঁধ পুরোপুরি এবং ৩৬২ কিলোমিটার বাঁধ আংশিকভাবে ধ্বসে পড়ে।

ঘূর্ণিঝড়ের এক বছর পর বি‌ভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ নিম্নরূপ:

 

প্রায় ২,০০,০০০ একর কৃষিজমি লোনা পানিতে তলিয়ে যায় (৯৭ হাজার একরের আমন ক্ষেত সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়)

কাজ হারায় ৭৩,০০০ কৃষক ও কৃষি-মজুর।

আক্রান্ত এলাকাগুলোয় পানীয় জলের উৎস সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়।

জলোচ্ছাস ও লোনা পানির প্রভাবে, গবাদি পশুর মধ্যে কমপক্ষে ৫০০ গরু ও ১,৫০০ ছাগল মারা যায়।

ঘূর্ণিঝড়ের কয়েক মাস পর থেকে এলাকাগুলোয় গাছপালা মরতে শুরু করে ও বিরানভূমিতে পরিণত হয়।

কমপক্ষে ৩,০০,০০০ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয় (২,৪৩,০০০ ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়)

পর পর দুই মৌসুম কৃষিকাজ না হওয়ায় প্রায় ৮,০০,০০০ টন খাদ্য ঘাটতি সৃষ্টি হয়।

খুলনা ও সাতক্ষীরায় প্রাণ হারান ১৯৩ জন মানুষ।

ঘূর্ণিঝড়ের ফলে দাকোপের ঢাকী নদীর তীর ও বাঁধ ভেঙ্গে তার বিস্তার বেড়েছে দক্ষিণে। এর ফলে ছোট জালিয়াখালি নামক গ্রামটি সম্পূর্ণ নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে, ফলশ্রুতিতে পাল্টে গেছে কামারখোলা ইউনিয়নের মানচিত্র। জালিয়খালি গ্রামের ৮০টি পরিবারের প্রায় ৫০০ জন মানুষ এখন উদ্বাস্তু (প্রেক্ষিত মে ২০১১)। উদ্বাস্তু এসব মানুষের কিছু অংশ (৬৩টি পরিবার) বাঁধের টিকে থাকা অংশে ঘর বেঁধে বসবাস করছেন। উদ্বাস্তুদের অনেকের কাঁচা ঘরের পাশাপাশি কারও কারও একতলা পাকা ভবনও নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

ঘূর্ণিঝড় আইলা’র নামকরণ করেন মালদ্বীপের আবহাওয়াবিদরা। ‘আইলা’ শব্দের অর্থ ডলফিন বা শুশুকজাতীয় জলচর প্রাণী। নামটি এই ঘূর্ণিঝড়ের জন্য নির্ধারণ করেন জাতিসংঘের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের আবহাওয়াবিদদের সংস্থা ‘ইউএন এস্কেপ’-এর (UN Escape) বিজ্ঞানীরা।

১০ বছরেও আইলার ক্ষত আজও অমলিল।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



@২০১৭ সর্বস্বত্ব স্বত্বা‌ধিকার সংর‌ক্ষিত.
প্রকাশক ও সম্পাদক:
এম এম আব্দুল্লাহ আল মামুন
ইমেইল- dearsabdullah@gmail.com
ওয়েবসাইট- dearsbd24.com
সম্পাদকঃ 09638 948404

সম্পাদনা ও প্রকাশনাঃ
হেড অফিসঃ
লঞ্জনীপাড়া, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রোড, উত্তরা, ঢাকা-১২৩০ হতে প্রকাশিত দৈনিক ডিয়ার্স বিডি টোয়েন্টিফোর ডটকম।
ই-মেইল- dearsbd24@gmail.com
বার্তা বিভাগ 09638959189

খুলনা অফিসঃ
নিরালা মোড়, খুলনা- ৯০০০

সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না
| Design Developed & Hosted By- Sundarban IT Ltd |

Share